আজ রবিবার ║ ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২০শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহবান ক্যাব’র

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    আগামি ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে রমজান মাস। রোজায় ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এবার ভালো অগ্রগতির আভাস ছিল। আশা করা হয়েছিলো রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় মাত্রায় থাকবে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের আবারো অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারনে অসাধু ব্যবসায়ীরদের নতুন অস্ত্র তুলে দিয়ে নিত্যপণ্য নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরীর করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। তাই অতিদ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের এ আন্দোলন প্রত্যহারের দাবি জানিয়েছে দেশের ক্রেতা ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

    রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই আহবান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা প্রেসিডিন্ট আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান প্রমুখ।

    বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, পুরো দেশ যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য উৎসুখ হয়ে আছে, সেখানে নির্বাচনের মাত্র কয়দিন আগে ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা চারদিন বন্ধের কারণে রমজানের দুই সপ্তাহ আগে কর্মদিবস আছে মাত্র সাতদিন। এর মধ্যে সপ্তাহের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে ভোগ্যপণ্যের চেইনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। এতে ছোলা, ডাল, তেল, চিনি, খেজুরের মতো রমজানে ব্যবহায় নিত্য পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ানোর আরও একটি অপশন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তথাকথিত আন্দোলনকারীরা। যা কোন ভাবেই তা কাম্য হতে পারে না।

    নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্দরে পণ্য খালসের সংকটকে পুঁজি করে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিবছর রমজানের বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এতে রমজান নাজাতের মাস হলেও ব্যবসায়ীদের জন্য মুনাফার মাস আর সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কষ্টের মাস হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে বন্দর নিয়ে এ আন্দোলনের কোন যুক্তিসংগত কারন নেই। কারণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রোজার আগেই দায়িত্ব হস্তান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন। বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা চাইলে নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে দেনদরবার করতে পারেন। এক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকার তাদের দাবির বিষয়ে চিন্তা করতে পারতেন। তাই এ সময়ে এ ধরনের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতাকে উসকে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। রমজানকে সামনে রেখে বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে স্বাভাবিক ভাবে বাজার অস্থির হবে, দাম বাড়বে, পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখে পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য একটি চক্র কাজ করেন। নানান গোষ্টি ও সংস্থার ইন্ধনেও এধরনের আন্দোলন হয়ে থাকে। রোজা সামনে রেখে বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাজার অস্থির হবে, দাম বাড়বে। এ সুযোগে যেসব ব্যবসায়ীর গুদামে পণ্য মজুত রয়েছে, তাদের অনেকে দাম বাড়িয়ে দেবে। কারণ অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ খোঁজেন। বন্দরের আন্দোলন তাদের সামনে সে সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তারা মানুষের পকেট কাটার নতুন ইসু পাবেন। যা শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না। তাই পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার ও সাধারন মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে এধরনের জনবিরোধী আন্দোলন থেকে বের হয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print