আজ বৃহস্পতিবার ║ ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনে ইন্টারনেট বন্ধ করলে আইনি ব্যবস্থা:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ইন্টারনেট সচল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

পহেলা ফেব্রুয়ারী রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে-ইন্টারনেট খোলা রাখা। কেউ যদি ইন্টারনেট বন্ধ করে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’নির্বাচন ঘিরে গুজব ও বিভ্রান্তি রোধে তথ্যপ্রবাহ সচল রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভোটারদের কোনো ধরনের হয়রানি হতে দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামের পাহাড়, সমতল ও উপকূলীয় ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনারা সবসময় বলেন, আইনশৃঙ্খলা কন্ট্রোল করি না। দেখেন এখানে আপনারা কয়জন সাংবাদিক, এই কয়জনের কথা বলাটা বন্ধ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তো দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডই হবে।
ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে যে মাত্রার স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে, বিগত আমলে তা ছিল না বলেও মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফেসবুক বা ইন্টারনেট বন্ধ করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই স্বাধীনভাবে লিখবেন, মতপ্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকেরাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না। এখন সেই পরিবেশ বদলে গেছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মুখ একেবারে খোলা। সত্যি কথা প্রকাশ করার জন্যই তো আপনারা। আপনারা যদি সত্য তথ্য প্রকাশ করতে না পারেন, জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করুক, সত্য কথা বলুক।

নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সময় যে সহিংসতাগুলো হচ্ছে, তার অনেকটাই নিজেদের দলের ভেতরেই। একই দল বা একই সংগঠনের ভেতরের দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on linkedin
Share on telegram
Share on skype
Share on pinterest
Share on email
Share on print