
সরোয়ার আলমগীর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল)-এর মনোনীত এমপি প্রার্থী, যিনি রাজনৈতিক জীবনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন এবং পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফটিকছড়ি ও আশেপাশের জনগণের মধ্যে তিনি পরিচিত একজন গণমান্য নেতা, যিনি স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-উদ্যোগে বৈচিত্রপূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। ফলে জনগণের হৃদয়ে স্থান পেয়েছেন এই নেতা।
সরোয়ার আলমগীর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি-র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, দলের অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি-র আহ্বায়ক হিসেবেও বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এই রাজনৈতিক ভূমিকা তাকে স্থানীয় জনগণ ও নেতৃত্বের মধ্যে একটি সুদৃঢ় সম্পর্ক নির্মাণে সহায়তা করেছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:
সরোয়ার আলমগীর বিএনপি-র হয়ে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মনোনয়ন পেয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রচারণা শুরু করেছেন। গণসংযোগ, পথসভা, সভা-সমাবেশ করে তিনি নিজের পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি জনগণের সামনে উপস্থাপন করছেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কিছু সময় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও হাইকোর্ট আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পুনরায় প্রদান করেছেন।
বিভিন্ন গণসংযোগের সময় তিনি ঘোষণা করেছেন যে তিনি ফটিকছড়িতে শিল্প জোন গড়ে তুলতে চান, যেখানে স্থানীয় মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বেকারত্ব কমবে।
ব্যবসায়ী পরিচয় ও উদ্যোগ:
সরোয়ার আলমগীর শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়; তিনি একজন উদ্যোগী ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতি থেকে, একটি ব্যক্তিগত ট্রাজেডি ও সিদ্ধান্ত থেকে যা তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি হালদা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। যে প্রতিষ্ঠান পোশাক, টেক্সটাইল ও অন্যান্য উৎপাদনজাত পণ্য উৎপাদনে সক্রিয়।
হালদা গ্রুপ বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করেছে। এটা দেখায় যে তিনি শুধু রাজনীতিতে নয়, বাস্তব জীবনের ব্যবসায়িক পরিবেশেও কঠোর পরিশ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম। ব্যবসায়িক বিশ্বে তাঁর অভিজ্ঞতা তাকে অর্থনৈতিক নীতি, বিনিয়োগ ও শিল্পচর্চা-এর মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধানে সক্ষম নেতৃত্ব প্রদান করতে সহায়তা করে। এটি তাকে রাজনৈতিক জীবনে আরও দক্ষ ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলে।
নেতৃত্বের গুণাবলী ও মূল্যবোধ:
সরোয়ার আলমগীর একজন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতা। তার নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. গণসংযোগ ক্ষমতা:
তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে সক্ষম, জনগণের দাবি-দাওয়া শুনতে ও তাদের সমস্যার সঙ্গে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে সবসময় প্রস্তুত থাকেন। এটি একটি সুশৃঙ্খল নেতৃত্বের লক্ষণ।
২. উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা:
ফটিকছড়িতে শিল্প জোন, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব নির্মূল ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য কাজ করার মতো মনমানসিকতা রয়েছে তাঁর। তিনি এলাকা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেন।
৩. দৃঢ় নীতি ও সাহসী অবস্থান:
নিজের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পরেও আইনি পথে লড়াই চালিয়ে স্বীকৃতি পুনরুদ্ধার করা এটি নির্দেশ করে যে তিনি নিজের নীতি ও আদর্শের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৪. ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত-গ্রহণ:
ব্যবসায়িক পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তব সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করতে সহায়তা করে। ব্যবসা পরিচালনার জটিলতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি রাজনীতিতেও সৃজনশীল সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।
পজেটিভ কার্যক্রম ও সামাজিক অবদান:
সরোয়ার আলমগীর স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলেছেন মাঠ পর্যায়ে গণসংযোগ, গণমিছিল ও পথসভা নিয়ে। তিনি এলাকার মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টির জন্য কাজ করছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও সহযোগিতা-র উপর জোর দিচ্ছেন।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি এলাকার যুবসমাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প উন্নয়ন ও স্থানীয় ব্যবসা-উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেন। এটি তার নেতৃত্বের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে বিচারযোগ্য।
এমপি হলে জনগণের জন্য সম্ভাব্য সুবিধা:
সরোয়ার আলমগীর যদি এমপি হন, তাহলে এলাকা ও জনগণের জন্য অনেক সম্ভাব্য সুবিধা তৈরি হতে পারে:
১. অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও শিল্প সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কারণে ফটিকছড়িতে শিল্প জোন বা ব্যবসায়িক অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
২. বেকারত্ব হ্রাস:
শিল্প জোন প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় যুবসমাজে বেকারত্ব কমে যাবে, স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।
৩. অবকাঠামো ও মৌলিক সুবিধা:
তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রস্তাব ও প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, পানীয় জল ও যোগাযোগসহ মৌলিক সুবিধা বাস্তবে আনতে উদ্যোগী হতে পারেন, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি উন্নতি আনতে সাহায্য করবে।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা ও সেবা-প্রাপ্তি:
সুসংগঠিত সমাজ সরকার-সম্পর্কিত সুবিধা যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা বৃত্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুযোগ বাড়াতে একজন কার্যকর এমপি হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
৫. স্থানীয় উদ্যোগ ও ব্যবসায়ী সহায়তা:
তার ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকায় স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সংস্থান সুবিধা প্রদান করা সহজতর হতে পারে।
সমাপ্তি ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি:
সরোয়ার আলমগীর একজন বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতা ও সফল ব্যবসায়ী, যিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) এলাকা থেকে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী হিসেবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করছেন। তাঁর নেতৃত্বে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন একযোগে বাস্তবায়িত হতে পারে—বিশেষত যদি তিনি নির্বাচিত হন এবং জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেন।
তিনি যে পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবে পরিণত হলে তা ফটিকছড়ি সহ আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নকে নতুন এক মাত্রা প্রদান করতে সাহায্য করবে।
আসন্ন নির্বাচনে ইন্টারনেট বন্ধ করলে আইনি ব্যবস্থা:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ইন্টারনেট সচল থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পহেলা জানুয়ারী রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে-ইন্টারনেট খোলা রাখা। কেউ যদি ইন্টারনেট বন্ধ করে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’নির্বাচন ঘিরে গুজব ও বিভ্রান্তি রোধে তথ্যপ্রবাহ সচল রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভোটারদের কোনো ধরনের হয়রানি হতে দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রামের পাহাড়, সমতল ও উপকূলীয় ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনারা সবসময় বলেন, আইনশৃঙ্খলা কন্ট্রোল করি না। দেখেন এখানে আপনারা কয়জন সাংবাদিক, এই কয়জনের কথা বলাটা বন্ধ করতে অনেক সময় লেগে যায়। তো দেশের ১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা অনেক ডিফিকাল্ট কাজ। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডই হবে।
ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে যে মাত্রার স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে, বিগত আমলে তা ছিল না বলেও মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফেসবুক বা ইন্টারনেট বন্ধ করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই স্বাধীনভাবে লিখবেন, মতপ্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকেরাও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গিয়ে প্রশ্ন করার সাহস পেতেন না। এখন সেই পরিবেশ বদলে গেছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মুখ একেবারে খোলা। সত্যি কথা প্রকাশ করার জন্যই তো আপনারা। আপনারা যদি সত্য তথ্য প্রকাশ করতে না পারেন, জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করুক, সত্য কথা বলুক।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই সময় যে সহিংসতাগুলো হচ্ছে, তার অনেকটাই নিজেদের দলের ভেতরেই। একই দল বা একই সংগঠনের ভেতরের দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










