আজ শনিবার ║ ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে দেব না: চট্টগ্রাম ডিসি

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রামের ডিসি হিল প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পরে ডিসি হিলের আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সকাল ১০:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়, যা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়।
র‍্যালি শেষে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এবং সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের মাসব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির আজকের এই উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন, “সামনে যেহেতু বর্ষা মাস আসছে, তাই আমরা যদি এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি, তাহলে আমরা সবাই—এই শহরের মানুষ—ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাবো।”
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তারা আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিশেষভাবে বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের এলাকায় যাতে পরিষ্কার পানিতে মশার লার্ভা জন্মাতে না পারে, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ডেঙ্গুকে মহামারী রোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন,কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “যখন কেউ আক্রান্ত হয়, তার প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যায় এবং সে ঝুঁকিতে পড়ে। আমরা চাই কোনো মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ুক। এজন্য আগে থেকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা সচেতন হই এবং আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, বিশেষ করে যেখানে ডেঙ্গু মশা বিস্তার করে, সেইসব এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি, তবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারব।”
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হয়নি সত্ত্বেও ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং গত মাসে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। “আমরা চাই না কোনো মানুষের প্রাণহানি ঘটুক। এজন্য প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তার দিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের যেকোনো ধরনের রোগ থেকে শুরু করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা মাসব্যাপী চলবে।”
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মানুষকে সচেতন করা এবং বসবাসের স্থানগুলো পরিষ্কার রাখা। চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে আমরা একটি নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম গড়ে তুলব।”
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। জেলা প্রশাসন আগাম সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করা হবে এবং জনগণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on linkedin
Share on telegram
Share on skype
Share on pinterest
Share on email
Share on print