আজ বৃহস্পতিবার ║ ২৮শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ║১৩ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    চট্টগ্রামে নেক্সাস ফেস্ট-২০২৫ সম্পন্ন

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ২৬ ও ২৭ আগস্ট দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো “নেক্সাস ফেস্ট-২০২৫”। ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম ও একশনএইড বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে এই উৎসব তরুণদের সম্প্রীতি, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
    জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধন করেন মাননীয় জেলা প্রশাসক চট্টগ্রামের প্রতিনিধি সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া মুমতাহিনা। প্রথম দিনে নাট্যদল থিয়েটার নওজোয়ান সামাজিক সম্প্রীতি ও দূর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলা বিষয়ক নাটক মঞ্চস্থ করে এবং যুব সদস্য জাবির বিন সোলাইমান এফজিডি রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।
    প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন— চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতার উপদেষ্টা জনাব শাহরিয়ার খালেদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল বাসার, সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাশ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি অফিসার তাজুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাবরিন সুলতানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন। এছাড়া চার ধর্মের ধর্মীয় গুরু আলহাজ্ব মাওলানা কাজি মোহাম্মদ হাবিবুল হোসাইন, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, ভান্তে এম বৌদ্ধমিত্র মহাতের ও ফাদার সিলভানুস হেম্ব্রম আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এছাড়া একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইয়াং পিপলস এন্ড জাস্ট সোসাইটির টিম লিড মো: নাজমুল আহসান, চট্টগ্রাম ইয়ুথ হাব-এর সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত এবং ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া। আলোচনার মূল বিষয় ছিল— “চট্টগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি, সম্প্রীতি রক্ষা ও উন্নয়ন”। আলোচনা শেষে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও তরুণদের অংশগ্রহণে একটি সম্প্রীতি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
    প্রথম দিনের সন্ধ্যায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিগান ও জারীগান পরিবেশিত হয়, যার মাধ্যমে চট্টগ্রামের বৈশিষ্ট্য ও মানবিক কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করার বার্তা দেওয়া হয়। এছাড়াও আবৃত্তি, ম্যাজিক শো, পুতুল নাচ, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর নৃত্য, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, আঞ্চলিক ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কৃষকের প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। দর্শকদের জন্য ছিল ৩৬০° ফটোবুথ, বায়োস্কোপ প্রদর্শনী এবং যুবদের উদ্ভাবনী উদ্যোগসহ সরকারি দফতরের স্টল প্রদর্শনী।
    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে যুব সদস্যদের অংশগ্রহণে মক প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এভারেস্ট বিজয়ী, পরিব্রাজক ও ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট বাবর আলীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে তরুণরা তার জীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করে। বিকেলে আন্ত:প্রজন্ম বস্তা দৌড়, বেলুন ফাটানো, হাঁড়ি ভাঙা, অংক দৌড়, চেয়ার খেলা, বল পাসিং, রিলে দৌড় এবং বাবা-মেয়ে ও মা-ক্রিকেট ম্যাচসহ নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের দিকে কমেডি শো এবং যুবদের অংশগ্রহণে নৃত্য, গান ও আবৃত্তির সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
    এছাড়া সমাপনী দিনে এক্টিভিস্টা চট্টগ্রামের আওতাধীন যুব গ্রুপ সমূহকে সম্মাননা স্বারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয় দশটি যুব সংগঠন— কায়ো বাংলাদেশ, ইউথ ভয়েস ফর চেঞ্জ, সান্নিধ্য, রক্তিম বাতিঘর, ইয়ুথ ইনোভেশন ফর একশন, ইয়ুথ পিপল বাংলাদেশ, পাহাড়তলী যুব সংঘ, উষার আলো যুব সংঘ, সৃজনশীল যুব সংঘ ও কসমিক ক্লাব-কে। পাশাপাশি চারটি সরকারি অধিদপ্তর— যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়। খেলাধুলার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
    সমাপনী ঘোষণা করেন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নাসরিন সুলতানা খানম। দুই দিনব্যাপী এই উৎসব তরুণদের উদ্দীপনা, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নেয়, যা দেশব্যাপী পাঁচটি জেলায় ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print