আজ বৃহস্পতিবার ║ ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    ট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ কথা জানান।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে খবর প্রচার হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। তিনি জানান, সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, কেবল প্রবর্তক মোড় এলাকায় সিডিএ’র চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক জলজট দেখা দেয়।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান খাল সংস্কার প্রকল্পের কারণে কিছু জায়গায় পানি প্রবাহে বাধা তৈরি হলেও দ্রুত তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে খালের পানি প্রবাহ সচল করা হবে এবং বর্ষার পর পুনরায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ইতোমধ্যে ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন করেছে এবং প্রায় ৬ হাজারের বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। বাকি খালগুলোর কাজ চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০-৬০ শতাংশ কমেছে। আগামী মৌসুমে এটি ৯০-৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস্থা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়। এ সমস্যা সমাধানে মেয়রের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে, যাতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায়।

    এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত এক বছরে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নগরের জলাবদ্ধতা ৫০-৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে তা আরও ৭০-৮০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    মেয়র জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি যুক্ত করতে আগামী ১৫ মে একটি সমন্বিত নাগরিক সেবা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোথায় ময়লা জমেছে, কোথায় ম্যানহোলের ঢাকনা নেই বা কোথায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে, এসব তথ্য নাগরিকরা সরাসরি জানাতে পারবেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তনও জরুরী।

    এছাড়া তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে দেশের সেরা সেবা প্রদানকারী সিটি কর্পোরেশন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কাজ চলবে।

    সভায় নগরের জলাবদ্ধতা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সভায় বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print