
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকা ধর্মঘটে তৃতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বন্দরে কনটেইনার ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ আছে।
এদিকে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বন্দর ভবন অভিমুখে আজ বিকালে কালো পতাকা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর এলাকায় এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে।
সিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ বন্দর ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে কোনো গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেও বাস্তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ না থাকায় বন্দর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে এরইমধ্যে ১২ কর্মচারীকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটিতে ও ঢাকার কমলাপুর কন্টেইনার ডিপোয় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অফিস চলাকালে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক দাবি করেছেন, বন্দর জেটিতে কাজ চলছে। রবিবারও এক হাজার ৭০০ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। কর্মবিরতি খুব একটা প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বন্দরের যেসকল ক্ষতি অভ্যন্তরে হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে ডেলিভারি না দেওয়ার কারণে বা ডেলিভারি কম দেওয়ার কারণে, সেই বিষয়গুলো দেখার জন্য এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রমিক–কর্মচারীদের আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইও চলছিলো বিষয়টি নিয়ে।
গত বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট খারিজ করে। চুক্তি করার প্রক্রিয়াটিকে বৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত।










