আজ সোমবার ║ ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পাঁচলাইশে পিস্তলের মুখে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ লুট ৩ কারিগর আহত

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে অস্ত্রের মুখে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বর্ণ বহনকারী তিন কারিগরকে মারধর করে আহত করা হয়। ছিনতাইকারীরা তাদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন—সবুজ দেবনাথ (৪০), বিভাস রায় (৩৭) ও পিন্টু ধর (৪০)। তারা সবাই কোতোয়ালী থানাধীন হাজারী লেনের মিয়া শপিং মার্কেটে অবস্থিত ‘জয়রাম ট্রেডার্স’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানের কারিগর।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে তৈরি করা ৩৫টি স্বর্ণের বার (মোট ওজন আনুমানিক ৩৫০ ভরি) নিয়ে তারা মালিকের নির্দেশে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নিরাপত্তার স্বার্থে স্বর্ণের বারগুলো নিজেদের জুতা ও ক্যাডসের ভেতরে বিশেষ কায়দায় ভাগ করে রাখা হয়।

পরদিন ৪ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন ফুলকলির সামনে থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর দিকে যাওয়ার পথে পাঁচলাইশ মডেল থানাধীন আতুরার ডিপো মধুবনের সামনে পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে।

এ সময় দুর্বৃত্তরা পিস্তল ও ধারালো ছোরা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বর্ণের ৩৫টি বার জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। বাঁধা দিতে গেলে কারিগরদের কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়।

ছিনতাইকারীরা আরও তিন কারিগরের ব্যবহৃত তিনটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে দেখলে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ভুক্তভোগীরা তাৎক্ষণিকভাবে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তাদের শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে দোকানের মালিক ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এজাহারে আরো উল্লেখ করেছেন, গত ২০ বছর ধরে তিনি হাজারী গলির মিয়া শপিং মার্কেটে ‘জয়রাম ট্রেডার্স’ নামে একটি দোকানে স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ও তার দুই সহকর্মী—বিভাস রায় ও পিন্টু ধর—জুতার (স্নিকার্স) ভেতরে লুকিয়ে স্বর্ণেরবারগুলো বহন করছিলেন। এ ঘটনার সাথে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট ও চক্র তাদের নজরদারিতে রেখেছে দাবি স্থানীয়দের।

পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানান ওসি মো. আব্দুল করিম। তিনি আরো জানান, সবুজ দেবনাথ নামে ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় তিনি চারজনকে আসামি করেছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৬ জুন কর্ণফুলী উপজেলার একটি পুলিশ চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস থেকে ৯ দশমিক ৫ কেজি স্বর্ণ জব্দ করে পুলিশ। সে সময় দুই নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, স্বর্ণগুলো কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল। সে সময় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে কৃষ্ণ কর্মকারের নাম উঠে এসেছিল।

আসামি টিপু ও নারায়ণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণালংকার বিক্রেতাদের সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি বিধান ধর ও কৃষ্ণ কর্মকারের নাম উল্লেখ করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on linkedin
Share on telegram
Share on skype
Share on pinterest
Share on email
Share on print