
জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন ও তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদক চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো রুজু করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম মামলায় সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারকে প্রধান আসামি এবং স্বামী জিয়াউল হক সুমনকে সহযোগী আসামি করে দুদক আইন ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিয়াউল হক সুমন ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন।
অনুসন্ধানে তার নামে মোট ১৬ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। দায় ও ব্যয় সমন্বয়ের পর তার মোট সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৪ টাকা। ফলে ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, একই অনুসন্ধানে তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের নামে ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে আসে। দুদকের দাবি, স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের সহায়তায় শাহানাজ আকতার নিজের নামে এসব সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এ কারণে স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পর যোগসাজশের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, কমিশনের প্রধান কার্যালয়, ঢাকার অনুমোদন সাপেক্ষে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকালে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা বা নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও আমলে নেওয়া হবে।
মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়।










