
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে একের পর আলোচনা সমালোচনা যেন থামছেই না। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে বেশ কিছুদিন যাবৎ। বিষয়টি নিয়ে আমি আগুনে ঘি ঢালতে চাইনা। যদি এটিকে পজেটিভ চিন্তা করি তাহলে দেখা যায় স্থানীয়দের জন্য তিনি আর্শীবাদ হয়ে থাকবেন। কারণ, জসীম উদ্দীন আহমেদ একজন পরিচিত ব্যবসায়ী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে যে বিষয়টি তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে, তা হলো সমাজসেবায় তাঁর সক্রিয় ও ধারাবাহিক ভূমিকা। ক্ষমতা বা পদকে নয়, বরং মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি শক্তিশালী ইতিবাচক দিক।
ব্যবসায়ী হিসেবে জসিম উদ্দিন বাস্তব জীবন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে কর্মসংস্থান, স্থানীয় অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বাস্তববাদী করে তুলেছে। তিনি জানেন কীভাবে বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও বাজারব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করা যায়। সমাজসেবায় তাঁর এই বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগে, কারণ সাহায্য শুধু ত্রাণে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি আত্মনির্ভরশীলতা তৈরির দিকেও নজর দেন।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জসীম উদ্দীন প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ভেতর থেকে জনগণের সমস্যা বোঝা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে পরিণত নেতৃত্বে পরিণত করেছে। একজন সমাজসেবকের জন্য এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আবেগের পাশাপাশি কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হয়।
তাঁর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। দল-মত নির্বিশেষে অসহায়, দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির তিনি বারবার রেখেছেন। শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা ব্যয়, দুর্যোগকালে ত্রাণ কার্যক্রম কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে নীরব সহায়তা, এসব কাজ তিনি প্রচারের জন্য নয়, দায়িত্ববোধ থেকে করে থাকেন। এতে সমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।
জসীম উদ্দীনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো সহজপ্রাপ্যতা। একজন জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতা হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। চন্দনাইশের গ্রামাঞ্চল, হাটবাজার বা সামাজিক আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি মানুষকে আশ্বস্ত করে যে তিনি দূরের কেউ নন, বরং তাদেরই একজন। এই যোগাযোগ সমাজসেবাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করে তোলে।
তরুণ সমাজের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও ইতিবাচক। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণরাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। তাই খেলাধুলা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা তাঁর সমাজসেবার অংশ। এতে একদিকে সামাজিক অবক্ষয় রোধ হয়, অন্যদিকে সুস্থ ও সচেতন নাগরিক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।
নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে জসীম উদ্দীন সচেতন অবস্থান রাখেন। রাজনীতিকে তিনি ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম নয়, বরং জনসেবার দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চান, এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত। সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে অনেকেই মনে করেন।
সব মিলিয়ে, ব্যবসায়ী হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সমাজসেবক হিসেবে মানবিক দায়বদ্ধতা, এই তিনের সমন্বয়ে জসীম উদ্দীন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের জন্য একজন ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। তাঁর পজেটিভ দিকগুলো কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গা তৈরি করছে।










