আজ শুক্রবার ║ ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আজ শুক্রবার ║ ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ║২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ║ ৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সর্বশেষ:

    চট্টগ্রাম জেলায় পণ্য সরবরাহ ২৪ ঘন্টা চালু থাকবে: জেলা প্রশাসক

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    জেলা প্রশাসক ফখরুজ্জামান বলেন,সকল ধরনের সাপ্লাই চেইন বহাল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে জেলায় সমন্বয় করে ঢাকামুখী পন্যবাহী যানবাহন একসাথে জড়ো করে বাহিনীর সহায়তায় জেলা টু জেলায় নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবি কাজ এ কাজে নিয়োজিত।
    এক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী জেলার সাথে সমন্বয় রাখতে হবে। যেকোন মূল্যে সাপ্লাই চেন বহাল রাখা হবে।
    জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারী মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র উন্নত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকে প্রস্তাবাকারে পত্র প্রেরণের জন্য বলা হয়। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণও টিম আকারে নিরাময় কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে নিরাময় কেন্দ্র না থাকায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিগণ যেমন: মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং ইমাম, শিক্ষক, পুরোহিত সমন্বয়ে সকলকে সম্পৃক্ত করার এবং মাদকের নির্মূলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়।
    রোববার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠেয় জেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সিএমপি, জেলা পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, বিজিবিসহ অনেকেই উপস্থিত থেকে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    এসময় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বাঁশখালী ও সন্দ্বীপের সাগর উপকুলীয় নদীপথ ব্যবহার করে মাদক পাচারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে।

    নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংক্রান্ত: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উর্ধগতি রোধে সংশ্লিষ্ট আমদানীকারকগণ এখন থেকে সকল আমদানীকৃত পণ্যের মূল্যের তথ্য এবং কোন জায়গায় পণ্যগুলো সরবরাহ করা হয়েছে, তা ড্যাশবোর্ডে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করবেন যা বাজার মনিটরিং এ সহায়ক হবে। চেম্বারের সহায়তায় আমদানীকারক ও মিল মালিকদের থেকে কি পরিমাণ পণ্য সরবরাহ হচ্ছে তা সমন্বয় করার জন্য মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বিআরটিএ নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সড়কের পার্শ্বে মালিকবিহীনভাবে গাড়ী রাখা বা পার্কিং করে রাখা রোধকল্পে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিআরটিএ কর্তৃক এ জাতীয় গাড়ী এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। হাটহাজারী, পটিয়া এলাকায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন প্রদানের সুবিধার্থে প্রতি মাসে ২/৩দিন ক্যাম্প করে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

    হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি রোডে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ইউএনও/এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অধিক পরিমাণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার নির্দেশনা দেন।

    সেইফ হোম নিয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্তৃক সমাজসেবা পরিচালিত সেফহোম নিয়মিত পরিদর্শন করে অবস্থানরদের খোজ খবর নিতে হবে।

    বিজিবির অধিনায়ক বলেন, মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে বিজিবি কাজ করছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক আসে বিধায় সীমান্তে তাদের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ভবঘুরে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সরকারী মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। লক্ষণীয় যে, মাদকাসক্ত ব্যক্তি কে সামান্য অর্থের বিনিময়ে যে কোন অপরাধ কার্যে দেশে চলমান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যথানিয়মে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত আছে। মাদক উদ্ধার, অস্ত্র উদ্ধার এবং চোরাচালান বিষয়ে সফলতার জন্য প্রতিবছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জেলা পুলিশকে পুরস্কৃত করা হয়। মাদক প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, ইমাম, শিক্ষক, পুরোহিতসহ সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। মাদকের সাথে জড়িত সকলকে সামাজিকভাবে ঘৃণা করতে হবে।

    সিভিল সার্জন বলেন, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের সিভির সার্জনের সম্পৃক্ততা নেই, তবে এ জাতীয় রোগী আসলে তাদেরকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।

    উল্লেখ্য যে, সকল ধরনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, ট্রেন বাস লঞ্চ যোগে যে সকল যাত্রীরা যাত্রা করবে, তাদের ছবি/ভিডিও তোলার ব্যবস্থা করতে হবে যেন পরবর্তীতে তাদের সনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি সকল যাত্রীকে সার্চ করতে হবে যাতে করে কেউ পেট্রোল বোমা বা বিস্ফোরক জাতীয় কোন কিছু বহন করতে না পারে।
    রেললাইন, রেলস্টেশন ও বাস-স্টেশনে নিরাপত্তার জন্য আনসার বিজিবি নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক সমন্বয় করে এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
    আজ সন্ধ্যা থেকে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে র‍্যাব বিজিবি পুলিশ একত্রে যৌথ টহল দিবে যেন শহরে এবং অন্যান্য স্থানে সন্ত্রাসীদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়।
    প্রতিটি জেলা এবং বিভাগে সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে একটি কন্ট্রোল রুম করতে হবে। যে কোন সমস্যা কন্ট্রোলরুমে জানানোর সাথে সাথে তারা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জনগণের মাঝে লোকাল ডিস চ্যানেল বা লোকাল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে জানিয়ে দিতে হবে যেন কোন নাশকতার আগাম খবর পেলে ৯৯৯ বা জেলা বা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুমে তথ্য জানিয়ে দেয়।

    মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন নতুন মাদক যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

    জেলায় ও মহানগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম, বিজিবি,গোয়েন্দা, র‌্যাব,,কোষ্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদেরকে কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।

    পেঁয়াজ, ডিম, চিনি, রসুন, আদা, মসলা ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করার জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে পণ্য ক্রয়ের রসিদপত্র, মূল্য তালিকা যাচাই, ভেজাল দ্রব্য, অসাধু ব্যবসায়ীদের গুদাম ও পণ্য মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে

    প্রত্যেক উপজেলায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদেরকে লাইসেন্সের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print

    সর্বাধিক পঠিত

    আমাদের ফেসবুক

    আমাদের ইউটিউব