আজ সোমবার ║ ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ║ ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    নিরাপদ ট্রেন ভ্রমন নিশ্চিতে সচেষ্ট জিএম সুবক্তগীন

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতা। মুসলমানদের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে লাখো মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামের পথে যাত্রা করে। আর এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পালন করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশেষ করে সড়কপথের যানজট ও ভোগান্তি এড়িয়ে অনেকেই ট্রেন ভ্রমণকে সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। ফলে ঈদকে সামনে রেখে ট্রেন পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এই চাপ সামাল দিতে এবং নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সুবক্তগীনের আপ্রাণ প্রচেষ্টা রেলসংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
    ঈদযাত্রা শুধু একটি পরিবহন কার্যক্রম নয়; এটি মানুষের আবেগ, প্রত্যাশা ও পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। একটি ট্রেন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো মানে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং হাজারো পরিবারের আনন্দ নিশ্চিত করা। তাই এই সময়ে রেলওয়ের দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। যাত্রীচাপ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা, স্টেশনে ভিড়, টিকিট ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও সময়সূচি ঠিক রাখা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সুবক্তগীন সরাসরি তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, স্টেশনে স্টেশনে গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কথা বলছেন যাত্রীদেও সাথে। কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে তাৎক্ষনিক সমাধানের চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
    নিরাপদ ট্রেন চলাচলের মূল ভিত্তি হলো সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নজরদারি। রেললাইনের অবস্থা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ইঞ্জিন ও কোচের কারিগরি সক্ষমতা, লোকোমাস্টারদের দায়িত্বশীলতা এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সামান্য অবহেলাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই ঈদের বাড়তি যাত্রীচাপের সময় এসব খাতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন হয়। সুবক্তগীন নিয়মিত বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।
    বিশেষ করে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা ঈদযাত্রার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একটি ট্রেন দেরি করলে তার প্রভাব পড়ে পরবর্তী একাধিক ট্রেনের ওপর। ফলে স্টেশনগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। এই বাস্তবতায় সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাড়তি তদারকি চালানো হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, কন্ট্রোল অফিস এবং ট্রেন পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন জিএম সুবক্তগীন। তার এই সক্রিয় মনিটরিং রেলসেবায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকে।
    ঈদের সময় টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো এবং ছাদে ভ্রমণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এসব অনিয়ম রোধে প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা ও নিয়মিত নজরদারি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রীসেবা বৃদ্ধি এবং শৃঙ্খলা রক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা অনেকটাই স্বস্তি পাচ্ছেন।
    রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গার্ড, লোকোমাস্টার, টিটিই, স্টেশন মাস্টার ও কারিগরি কর্মীরা ঈদের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সুবক্তগীন মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উৎসাহিত করছেন যাতে তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন এবং যাত্রীসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। একজন দক্ষ প্রশাসকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সংকটময় সময়ে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়া, আর ঈদযাত্রার মতো চাপপূর্ণ সময়ে তার সক্রিয় ভূমিকা সেই দায়িত্ববোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
    বাংলাদেশ রেলওয়ে বর্তমানে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে চলেছে। নতুন কোচ, উন্নত ইঞ্জিন, ডাবল লাইন প্রকল্প, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও নতুন রুট চালুর মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক তদারকি। ঈদের মতো বিশেষ সময়ে এই ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি পরীক্ষিত হয়। সুবক্তগীনের আপ্রাণ প্রচেষ্টা সেই বাস্তবতার মধ্যেই একটি দায়িত্বশীল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
    যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা শুধু রেলওয়ের দায়িত্ব নয়; এটি একটি মানবিক দায়িত্বও। কারণ ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের কাছে আনন্দের পাশাপাশি থাকে সময়মতো পৌঁছানোর উদ্বেগ। একটি দুর্ঘটনা, দীর্ঘ বিলম্ব বা অব্যবস্থাপনা সেই আনন্দকে মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত করতে পারে। তাই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যে তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
    সুতরাং ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমের বিকল্প নেই। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সুবক্তগীনের আপ্রাণ তদারকি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিরাপদ ট্রেন পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। যাত্রীসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ধরনের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ঈদযাত্রা হবে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print