আজ শুক্রবার ║ ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    রোজার প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম নগরীতে ইফতারির স্বাদ নিতে ভিড়

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    বছরঘুরে আসে পবিত্র মাহে রমজান। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করার অন্যতম একটি সুযোগ মাহে রমজান। এই মাস ঘিরে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে থাকে নানা প্রস্তুতি। সবাই সবার জায়গা থেকে প্রস্তুতি নেয় বিশেষ এ মাসকে উদযাপনের জন্য। বিশেষ করে সবাই একসঙ্গে সেহরি ও ইফতারের চেষ্টা করেন। আর ইফতারে পুরো দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকে নানা রকমের খাবারের পসরা।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সরেজমিনে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জোহরের নামাজের পরেই ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ফুটপাত, সব জায়গায় বাহারি ইফতারের পসরা নিয়ে হাঁক-ডাকে জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ক্রেতারাও ভিড় জমাচ্ছেন দুপুর থেকেই। ইফতারের সময় যতোই গড়াচ্ছে, ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে।

    ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ হালিম,ফিরনি, জিলাপি সহ নানা সব বাহারি খাবার বিক্রি করছেন তারা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই বাড়ে ক্রেতাদের ভিড়।

    তবে রোজার প্রথম দিন সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে, হালিমের হাঁড়ির সামনে। রীতিমতো হুড়োহুড়ি করে নগরের জিইসি মোড় এলাকার হান্ডি রেস্টুরেন্ট থেকে হালিম কিনছেন ক্রেতারা।

    হালিমের পাশাপাশি ক্রেতাদের পছন্দের হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি,বীপ খিচুড়ী, মেজবানির মাংস, শ্রীলঙ্কান রোল, শাম্মি কাবাব, বাট্টি পরোটা, চিকেন কাটলেট,মাটন লেগরোস্ট ও চিকেন তান্দুরি জিরা পানি, দই-জিরা পানি, জুস, হালিম আখনি, ল্যাম্ব শর্মা, চিকেন শর্মা, শ্রিম্প পাকোড়া, পুরান ঢাকার শাটল কাবাব, মাটন লেগরোস্টসহ নানা মুখরোচক ইফতারসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে দেদার।

    হান্ডি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মামুন বলেন ‘প্রতি রমজানে আমাদের দৈনিক দুইশ কেজির বেশি হালিম বিক্রি হয়। হালিমের মধ্যে চিকেন, বিফ ও মাটন তিনটাই আছে।

    হান্ডি রেস্টুরেন্টে ইফতারি কিনতে এসেছিলেন মোঃ জাহেদ। তিনি বলেন, প্রথম রোজায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার করব। বাসার সবার চাহিদা অনুযায়ী মাটন লেগরোস্ট ও চিকেন তান্দুরি নিব। দাম একটু বেশি, কিন্তু ভালো জিনিস পেতে চাইলে দাম তো একটু বেশিই হবে।

    অপরদিকে নগরীর কাজীর দেউড়ি ক্যাফে লায়লা ও হালিশহর গাউসিয়া প্রিমিয়াম সুইটস এন্ড বেকারীতে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।

    ক্যাফে লায়লার স্বত্বাধিকারী মোঃ জামান বলেন এখানে বিক্রি হচ্ছে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, ডিম চপ, পিয়াজু, ছোলা, বীফ বিরানি, হালিম সহ বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী। মিষ্টির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে শাহী জিলাপি, মিষ্টি, দইসহ নানা খাবার। এ ছাড়াও সেহেরিতে খাওয়ার জন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। রাত ১টা থেকে আজানের আগ পর্যন্ত এখানে কয়েক প্রকার ভর্তা সহ সুস্বাদু খাবারের আয়োজন থাকে।

    প্রথম রমজান তাই পরিবারের সঙ্গে ইফতার করবেন ফল ব্যবসায়ী মোঃ আলম। আছরের নামাজ পড়েই বাসায় ফিরছেন তিনি। ফেরার পথে নগরের কাজীর দেউড়ি ক্যাফে লায়লা থেকে হালিম ও ইফতার সামগ্রী কিনতে এসেছেন তিনি।

    গাউসিয়া প্রিমিয়াম সুইটসে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভীড়। এখানেও হালিম থেকে শুরু করে সবধরনের পসরা সাজিয়েছেন তারা।
    ছোলা, বুট, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ডিম চপ, দই বড়া, ডাবলির ঘুঘনি, মিষ্টি, শাহী হালিম, গরু-মুরগি-খাসির হালিম, বীফ ও মার্টন বিরাণী, কাবাব, সবজি পাকোড়া, মাংসের চপের পাশাপাশি অনেকে তাদের নিজস্ব বেকারী আইটেম নিয়ে বিশেষ আয়োজন নিয়ে বসেছেন। ছোট প্যাঁচের জনপ্রিয় জিলাপী প্রস্তুতে ব্যস্ত কারিগড়।

    গাউসিয়া প্রিমিয়াম সুইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোঃ তাকউইন মেরাজ আদিল বলেন, এবারে রোজার প্রথম দিনেই ইফতার বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। আশা করছি এমনই থাকবে। আর আমরাও মানসম্মত ইফতারি বিক্রি করার চেষ্টা করে থাকি। গাউসিয়া প্রিমিয়াম সুইটস বংশ পরম্পরায় এখানে ব্যবসা করছেন। তবে তাদের সারা বছরের জন্য রয়েছে বেকারী আইটেম। তবে এখানকার ক্রেতারা শুধুমাত্র হালিশহর নয়, বরং চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকার মানুষজনও বেকারী আইটেম ও ইফতারির স্বাদ নিতে এখানে আসেন।

    কথা হয় এ ব্লক বাস ষ্ট্যান্ড থেকে আসা ক্রেতা মোঃ ওমর ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতি বছর রোজা এলে গাউসিয়া প্রিমিয়াম সুইটস থেকে ইফতার কিনে থাকি। এখানের অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে প্রতিটি খাদ্য পণ্য আধুনিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয়।

    কে ব্লক থেকে হালিম কিনতে আসা মোঃ সফিউল্লা বলেন, গাউসিয়া প্রিমিয়াম সুইটসের হালিম খুবি বিখ্যাত। প্রায় ৫০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী হালিমের স্বাদ ধরে রেখেছে। এখানে প্রতি বছর বিফ, চিকেন ও মাটন তিন ধরনের হালিম পাওয়া যায়। অবস্থা এমন হয়েছে যে এখন হালিম ছাড়া ইফতার, এটা কল্পনাই করা যায় না।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print