
চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের উদ্যোগে আদালতের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মো. সোয়েব খান, বিজ্ঞ স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক, মো: আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, ডিসি (প্রসিকিউশন) মো: হাসান ইকবাল চৌধুরী, শিল্প পুলিশের এডিশনাল পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেন, এসি (প্রসিকিউশন) মো: আরিফ ইকবাল, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ সালাউদ্দিন, পিবিআিইয়ের পরিদর্শক (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি উত্তর) সিএমপি চট্টগ্রাম মোঃ মোস্তফা কামাল, এসি ট্রাফিক (নর্থ) কবির উদ্দিন সরকার, এসি ট্রাফিক (উত্তর) মো: সালাউদ্দিন, চমেক পরিচালকের প্রতিনিধি ডা. ইমরান হেসেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর আইন কর্মকর্তা মাসুম রেজা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রোমানা আক্তার, র্যাবের প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য অংশীজনসহ চট্টগ্রাম মহনগর এলাকার ১৬ থানার অফিসার ইন-চার্জবৃন্দ এবং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ পরিদর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসান আলী চৌধুরী এবং মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যডভোকেট জনাব মোঃ মফিজুল হক ভূইয়া।
আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, কমান্ডার ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রতিনিধি মেজর তানভীর।
কনফারেন্সের শুরুতে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি বিগত সভার সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে আজকের কনফারেন্সের আলোচ্য সূচী উপস্থাপন করেন।
এরপর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকারের পরিচালনায় উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে কনফারেন্সে উপস্থিত মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানার অফিসার ইন-চার্জগণ তদন্তকাজে তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেনে এবং সভাপতি তাদের সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন আইনগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, নিরাপদ ব্যক্তিকে মামলা হতে অব্যহতির লক্ষ্যে সংশোধিত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩-বি ধারা অনুযায়ী অন্তবর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রিমান্ড আবেদনে পর্যাপ্ত যৌক্তিক তথ্য উল্লেখ করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। ক্রোকি পরোয়ানামূলে জব্দকৃত মালামাল রাখার পর্যাপ্ত স্থান নেই মর্মে জানান।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: হাসান আলী চৌধুরী বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত হতে রিমান্ড না-মঞ্জুর হলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করতে পারে।
কমান্ডার ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রতিনিধি মেজর তানভীর বলেন, মাঠ পর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন। আইন-শৃংঙ্খলা উন্নতিতে একযোগে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, বিনা ময়না তদন্তে লাশ দাফনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা অফিসার ইন-চার্জ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারার মামলায় শান্তি-শৃংঙ্খলার আদেশ মানে মামলার কার্যক্রম বন্ধ করা নয় বরঞ্চ মামলার কার্যক্রম চালু রেখে শান্তি-শৃংঙ্খলা বজায় রাখাকে বুঝায়।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার বলেন, শুধুমাত্র আসামীর দোষস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে তদন্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী ও সাক্ষী উপস্থাপন বিষয়ে নিয়মিত এনইআর প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক আসামীর সম্পত্তির বিবরণ প্রদান, জব্দকৃত আলামতের মালিককে মামলার সাক্ষী কিংবা আসামী করা ও মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসআপ মোবাইল নম্বর উল্লেখ করারও নির্দেশ দেন। তিনি পিআরবির বিধি ২৮৩ অনুযায়ী মামলার আসামীকে আদালত চলাকালীন সময়ে উপস্থাপন করা এবং আসামীকে সনাক্ত করার জন্য টিআই প্যারেডের আয়োজন করারও নির্দেশ দেন। সঠিক সময়ে মেডিকেল সনদ সরবরাহের জন্য কমিটি বা বোর্ড গঠন করা যায় কিনা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালকের প্রতিনিধিকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের চাহিতমতে জেলখানা থেকে আসামীদেরকে নিয়মিত উপস্থাপন না করা গেলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপযুক্ত কারণ উল্লেখে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য সিনিয়র জেল সুপারকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সকল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স, মোবাইল টিম প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন।
মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যডভোকেট মো. মফিজুল হক ভূইয়া আদালতের বিচারক, আইনজীবী, সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিচারপ্রার্থীর অধিকার নিশ্চিতে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে মামলা নিষ্পত্তিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে ও বিদ্যমান সমস্যাসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করলে কাজের মুল্যায়ন হয় এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। তিনি সামনের দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পারষ্পরিক সমন্বয়ে আইনের অধীনে থেকে জবাবদিহিতার মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীকে ন্যায়বিচার উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।










