আজ শনিবার ║ ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে চসিককে স্বনির্ভর করা হবে : ডা. শাহাদাত

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    শপিং কমপ্লেক্স, আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) দামপাড়া চসিক রেস্টহাউজে বাংলাদেশ মিউনিসিপল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চসিকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে চসিকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামগত উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক-মানববর্জ্য রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে পরিবেশের মান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে টাইগারপাস থেকে টানেল, অক্সিজেন থেকে মুরাদপুরসহ নগরীর প্রধান কিছু সড়ককে ফুটপাথ ও ড্রেনসহ আইকনিকভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি টাকার আয়বর্ধক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের অর্থায়নের ১৮ শতাংশ ঋণ, ৭২ শতাংশ গ্রান্ট এবং ১০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়ন থেকে হবে।

    এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নগর ভবন, বিবিরহাট কিচেন মার্কেটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ড্রেন চিহ্নিত করা হয়েছে। শনিবার বিএমডিএফের প্রতিনিধি দল এসব স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। অতীতেও বিএমডিএফের অর্থায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে ফইল্লাতলী কিচেন মার্কেট উল্লেখযোগ্য। ভবিষ্যতেও বিএমডিএফের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, টেকসই ও আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

    মতবিনিময় সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দ্রুত নগরায়ন, শিল্প সম্প্রসারণ, বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে নগর অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, পাহাড় ধস, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি চট্টগ্রামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ অপরিহার্য।

    মেয়র আরও বলেন, বিদ্যমান নিজস্ব রাজস্ব ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) দিয়ে এই বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষিতে বিএমডিএফের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, সহ-অর্থায়ন এবং ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং মডেলের মাধ্যমে কৌশলগত নগর বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে এগুলো একদিকে নাগরিক সেবার মান উন্নত করবে, অন্যদিকে রাজস্ব-বর্ধনশীল প্রকল্প হিসেবে চসিকের আয় বাড়াবে এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।

    সভায় বিএমডিএফ প্রতিনিধি দল মেয়রকে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষায়িত আর্থিক সংস্থা, যা পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর নগর উন্নয়ন কার্যক্রমকে সহায়তা করার লক্ষ্যে কাজ করছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য টেকসই ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই বিএমডিএফের মূল উদ্দেশ্য।

    প্রতিনিধি দলটি আরও জানায়, বিএমডিএফ সহজ শর্তে ঋণ, অনুদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কসহ বিভিন্ন নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করে থাকে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা ও আর্থিক শাসনব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিএমডিএফের তহবিল মূলত বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে আসে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মাহমুদ শাফকাত আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print

    সর্বশেষ খবর