
চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা, সাংবাদিকতার অতীত ও বর্তমানের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিএমআরইউ)-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসের ১৭ রমজান উপলক্ষে শনিবার নগরীর সিআরবি তাসফিয়া গার্ডেনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। “সাংবাদিকতার একাল-সেকাল” শীর্ষক এই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ এক মিলনমেলা, যেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা পেশাগত নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবী শাওনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি ও কালবেলার ব্যুরো প্রধান সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক আয়ান শর্মা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব উদ্দিন আখন্দ, রেলওয়ে জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম পিন্টু, সংগঠনের নির্বাহী সদস্য আব্দুল মতিন রিপন, সাংবাদিক আমিন, দৈনিক যুগান্তরের কাওছার, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র সাংবাদিক রেজা মোজাম্মেল,এমআরএ এর চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশার মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। একজন সাংবাদিক শুধু খবর সংগ্রহই করেন না, তিনি সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। সমাজের ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা এবং সঠিক-ভুলের প্রতিফলন সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে মানুষের সামনে উঠে আসে। তাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব অনেক বড় এবং এই দায়িত্ব পালনে সততা, সাহস ও পেশাদারিত্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এক সময় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা এতটা ছিল না। তখন সাংবাদিকদের অনেক কষ্ট করে মাঠে কাজ করতে হতো। এখন প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতা কখনোই শুধু পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ববোধের জায়গা। একজন সাংবাদিককে সবসময় সত্যের পক্ষে থাকতে হবে। অনেক সময় নানা চাপ, হুমকি কিংবা প্রলোভন আসে, কিন্তু একজন পেশাদার সাংবাদিককে এসবের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হয়।
চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক আয়ান শর্মা বলেন, বর্তমান সময়ে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এখন শুধু লিখিত সংবাদ নয়, ভিডিও, ছবি ও ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। তাই সাংবাদিকদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক সাংবাদিকতার ধারা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা জরুরি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্রগ্রাম মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব উদ্দিন আখন্দ বলেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সাংবাদিকরা সমাজের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাদের লেখনী ও প্রতিবেদন অনেক সময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রেলওয়ে জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের মধ্যে যদি ঐক্য থাকে তাহলে তারা আরও শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারবেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিএমআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি একটি পেশাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার পেশা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি সম্মানজনক। এই পেশায় টিকে থাকতে হলে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। সিএমআরইউ চট্টগ্রামের কর্মরত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের একত্রিত করে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও সাংবাদিকরা একসঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
সংগঠন চট্টগ্রাম মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিএমআরইউ) উপস্থিত সকল অতিথি, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজে ইতিবাচক সাংবাদিকতার চর্চা জোরদার করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।










