আজ বৃহস্পতিবার ║ ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: স্বপ্নের পালে নতুন হাওয়া

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    গত ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্ব বিএনপি ভূমিধস বিজয়ের
    মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মহাকাব্যিক পরিবর্তন ঘটে গেলো। সারা দেশে ৩০০ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২১২ টি আসনে জয় লাভ করেছে। ২ টি আসনের ফলাফল স্হগিত রেখেছে আদালতের নির্দেশে ও ১ টি আসনে প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় পরে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল স্হগিত ২ টি আসনেও জয় লাভ করেছে ধানের শীষের প্রার্থী।
    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার ২টি আসন বগুড়া – ৬ ও ঢাকা-১৭ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বগুড়া ৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা ১৭ আসনের এমপি হিসেবে জনগণের সেবা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দেশ পরিচালনায় দুই নেত্রীর যুগের অবসান হলো। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৭ তারিখ বিকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশ প্রবেশ করলো তারেক রহমানের যুগে। আজ থেকে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান।

    রাজনীতির এই পথ কতোই না বেধনা বিধুর। ইতিহাসের সাক্ষী হলো প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এক তারেক রহমান কে রাজনীতি তথা দেশে না আসার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন পলাতক খুনী হাসিনা গং। নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সুদৃঢ় নেতৃত্ব গুনে দীর্ঘ দিন লন্ডন প্রবাসী হয়েও আজ বাংলাদেশের স্টেটসম্যানে পরিণত হন তারেক রহমান। আর স্বপ্ন নয় আজ এটা বাস্তব। আপসোস এই মাহেন্দ্রক্ষণ দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া দেখে যেতে পারলেন না। খুনি হাসিনা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন। গণতন্ত্রের মা আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

    দীর্ঘ দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ঐতিহাসিক ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন এক সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে দলটি, যখন তাদের সামনে রয়েছে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের কাঁধে থাকবে তলানিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনা, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সংকটাপন্ন অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন; দুর্নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপে সমন্বিত কূটনীতি। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরাতে বিএনপিকে নজিরবিহীন পরীক্ষা দিতে হবে। দলটি ঐতিহাসিক বিজয়কে পুঁজি করে তারেক রহমান কতটা দূরদর্শী নেতৃত্ব দেবেন, সেদিকে সবার নজর থাকবে দেশের আপামর জনসাধারণের। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের এই যাত্রায় চোখ থাকবে বিশ্ব মিডিয়ারও।

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম যেমন এ দেশের ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারেক রহমানও একই অবস্থা। পলাতক হাসিনা গং এর মহা-লুটপাটে দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনের নগ্ন দলীয়করণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে লেকচারার সবই দলান্ধ। শুধু একটি দল আওয়ামী লীগের লোক বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে বসে আছে। এদের কে সাথে নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই যাত্রা হবে পাহাড়সম চ্যালেন্জিং। এ ছাড়া সরকারের সামনে থাকবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া একচেটিয়া কূটনৈতিক সম্পর্কে ভারসাম্য আনা, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। এসব বিষয় মাথায় রেখে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আকাশচুম্বী জয় পাওয়া দলটি। পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় দলীয়করণের অভিযোগে বিদ্ধ ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা বিএনপির জন্য অগ্নি পরীক্ষা।
    দেশের মানুষ বিএনপির ওপর যে আস্থা রেখেছে তা বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির একটা বড় সমন্বয় ঘটনোই বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।’ হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে দেশ আজ নতুন করে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু তারেক রহমানের নেতৃত্বে।

    সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে সামনে রেখে গত ৬ ফেব্রুয়ারী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছিলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ইনসাফ-ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দলটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে আজ গুরু দায়িত্ব জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন বিএনপি। এই ইশতেহারের শ্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারে ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছিলো বিএনপি। ইশতেহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    নির্বাচন-পরবর্তী ‘ইতিবাচক’ রাজনীতির বার্তা দিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন নজীর স্হাপন করে।

    বিদেশি গণমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের সমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদেরও দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। কে রাজনীতি করবে—সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণই নেবে।’ তার এমন বক্তব্যের পর হালে পানি পেয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি। নির্বাচনে পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলের অফিসের তালা খুলেছে, কোথাও মিছিলও করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া, জুলাই গণহত্যা ইস্যুতে দলটি বিচার নিয়ে বিএনপিকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। দলটির রাজনীতি উন্মুক্ত করার ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে চাপ সৃষ্টি হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কাছে এদেশের সাধারণ মানুষের চাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বনির্ভর ও উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐক্যই হবে প্রধান শক্তি। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন।

    নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পথে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার মতো আর কোন দানব যেন এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে এমনই চাওয়া ১৮ কোটি মানুষের। দীর্ঘ বিশ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর জন্য রইল দেশের আপামর জনসাধারণের দোয়া- ভালোবাসা ও শুভকামনা। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক আপন মহিমায়।

    লেখক:সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল। ০১৮১৯৬১৭৩৮০ [email protected]

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print