আজ মঙ্গলবার ║ ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ║১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ║ ৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ:

    হবে’–‘পরে হবে’ শুনতে চায় না মানুষ: ডিসি জাহিদ

    Share on facebook
    Share on whatsapp
    Share on twitter

    প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে মানুষ দ্রুত সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চায় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, “‘হবে’, ‘পরে হবে’—এ ধরনের ব্যাখ্যা মানুষ আর শুনতে চায় না। তারা সরাসরি জানতে চায়—কেন হবে, কেন হবে না।”
    মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক স্টাফ রিভিউ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন মাস পূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়টা খুব বেশি নয়; তবে এ সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে নানা কার্যক্রমে কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
    তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে পথচলা শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের নির্ধারিত পরিসরের মধ্য থেকেই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্র বুঝে সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
    মানুষের প্রত্যাশা বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় সরকারি কর্মচারীদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নিয়ে সংশয় ছিল। “আমরা প্রমাণ করেছি—স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব। আমরা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নিই না, রাষ্ট্রের জন্য কাজও করি। এখন মানুষের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।”
    তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে বলেন, দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে জড়ানো যাবে না। প্রত্যাশা পূরণে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
    সরকারি পদ স্থায়ী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি স্থায়ী নই, আপনারাও নন। কিন্তু এই সময়টুকু আমাদের হাতে। আমরা সমাজকে কী দিলাম, কী পরিবর্তন আনলাম—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।” প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতার সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবে আন্তরিকতা থাকলে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
    তদবির, ব্যক্তিগত সুপারিশ বা প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতিকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রাষ্ট্রের কর্মচারীদের মেরুদণ্ড কেবল রাষ্ট্রের কাছেই নত হবে, কোনো ব্যক্তির কাছে নয়।
    সময়ানুবর্তিতা ও কাজের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ফাইল পেন্ডিং রাখা যাবে না। নির্বাচনকালীন ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি চেষ্টা করেছেন যেন কোনো ফাইল পরের দিনে না যায়। নাগরিক তাঁর ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বিবেচনা করেন না; তিনি তাঁর প্রাপ্য সেবা চান।
    মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শুধু নিজের সন্তানের প্রতি নয়, অন্যের সন্তানের প্রতিও সমান মমতা থাকতে হবে। তবেই প্রকৃত অর্থে মানবিক প্রশাসন গড়ে উঠবে।
    উৎসবকেন্দ্রিক মূল্যবৃদ্ধির সংস্কৃতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উৎসব এলে দাম বাড়বে’—এই ধারণা বদলে ‘উৎসব এলে দাম কমবে’—এমন মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।
    এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড,
    খাল খননসহ নতুন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো নাগরিক তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন তিনি।

    Share on facebook
    Share on twitter
    Share on whatsapp
    Share on linkedin
    Share on telegram
    Share on skype
    Share on pinterest
    Share on email
    Share on print