চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারক ও বাহক। সেই ঐতিহ্যকে পাথেয় করে এই শহরকে একটি 'ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট' সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের সময় আমি যে অঙ্গীকার করেছিলাম, তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। গত ১৬ মাসে আমরা অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি। সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নগরীর রহমতগঞ্জস্থ জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে শ্রীমন মহাপ্রভুর আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী সন্মিলন উৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি শহরকে নিরাপদ রাখতে হলে তাকে উৎসবমুখর রাখতে হবে। সম্প্রতি দোল উৎসব উপলক্ষে মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলের মাঠ উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উৎসবের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
মেয়র বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের অধিকার রক্ষায় এ দেশের মানুষকে দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয়েছে। চট্টগ্রামকে আমরা এমন এক নিরাপদ শহর হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে। তিনি সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
শ্রীমন মহাপ্রভুর আবির্ভাব উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী রাজীব দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ফরিদপুর মহানাম মঠের অধ্যক্ষ ড. নিকুঞ্জ বন্ধু ব্রম্মচারী, পাঁচুরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবিশ্বরানন্দ পুরী, ঢাকা ছায়ানটের শিক্ষক শ্রী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি সহ দেশ বিদেশের বিশিষ্ট অতিথি ও ধর্মতত্ত্ববিদগণ।