
চট্টগ্রাম বন্দরেরর এনসিটি লিজের সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, প্রশ্নবিদ্ধ এবং জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের শিল্প-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে সামনে পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি ডেকে আনতে পারে।
তারা আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়কে সামনে রেখে এমন স্পর্শকাতর ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বন্দর শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়িক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহলের সঙ্গে সর্বদলীয় আলোচনা ও ঐকমত্য সৃষ্টি করা ছিল অত্যাবশ্যক।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি সম্পাদনের প্রচেষ্টা দেশের জনগণের মধ্যে গভীর সন্দেহ, উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত এ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কৌশলগত নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পরিস্থিতি সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।