বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন জনগণ নতুন ধরনের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে, যেখানে থাকবে সততা, মেধা, আধুনিক চিন্তাধারা এবং সমাজের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা, ঠিক সেই সময়ে চট্টগ্রাম-১০ আসন (ডবলমুরিং-হালিশহর-খুলশী) থেকে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন সাঈদ আল নোমান। তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যিনি রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জনগণের কল্যাণ ও দেশ গঠনের একটি গুরুদায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে সততা, শিক্ষা, ভদ্রতা, দূরদর্শিতা এবং মানবিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়, যা তাকে সমসাময়িক অনেক রাজনীতিবিদের তুলনায় আলাদা করে তোলে।
সাঈদ আল নোমান শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজচিন্তক এবং প্রতিষ্ঠান নির্মাতা। তিনি প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমানের পুত্র, যিনি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, ইস্ট ডেল্টা উইনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী এবং চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় নেতা। আব্দুল্লাহ আল নোমানের নাম আজও চট্টগ্রামের মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও সাহসী রাজনীতিবিদ হিসেবে। পিতার সেই আদর্শিক রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করছেন সাঈদ আল নোমান, তবে তিনি কেবল অতীতের ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করেননি; বরং আধুনিক চিন্তা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলছেন।

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড, এই বিশ্বাসে গভীরভাবে আস্থাশীল সাঈদ আল নোমান। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত ছিলেন, যা চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি কেবল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নয়; এটি একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন, যেখানে শিক্ষার মান, নৈতিকতা, আধুনিক জ্ঞান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একজন রাজনীতিবিদের জন্য শিক্ষা খাতে এমন বিনিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে তিনি শুধু আজকের কথা ভাবছেন না, বরং আগামী প্রজন্মের কথাও গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।
সাঈদ আল নোমানের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর ব্যক্তিগত সততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিকতার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়, তখন একজন বিতর্কমুক্ত, মার্জিত ও শিক্ষিত নেতার উপস্থিতি মানুষের মনে স্বস্তি আনে। তাঁর জীবনাচরণ, সামাজিক আচরণ ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে শালীনতা ও দায়িত্ববোধের ছাপ স্পষ্ট। তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি কথা বলেন পরিমিতভাবে, শোনেন মনোযোগ দিয়ে এবং সিদ্ধান্ত নেন যুক্তির ভিত্তিতে। এই গুণগুলো একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তাঁর নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মেধা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা। তিনি জটিল সমস্যাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম এবং আবেগের পরিবর্তে যুক্তিকে প্রাধান্য দেন। শিক্ষা, প্রযুক্তি, নগর উন্নয়ন, যুব সমাজের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, এসব বিষয় তার ভাবনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি উপলব্ধি করেন যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করা যায় না; এর জন্য দরকার পরিকল্পিত চিন্তা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবমুখী উদ্যোগ।
সাঈদ আল নোমানের সামাজিক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্য। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে নীরবে সাহায্য করেন, প্রচারের আলোয় না এসেও মানুষের পাশে থাকেন, যা একজন প্রকৃত মানবিক নেতার বৈশিষ্ট্য। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ যোগাযোগ, তরুণদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রবীণদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ তাকে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
চট্টগ্রাম-১০ আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে শহুরে সমস্যা যেমন যানজট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং বেকারত্বের মতো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এই প্রেক্ষাপটে সাঈদ আল নোমান যদি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে জনগণ বিভিন্ন দিক থেকে বাস্তব সুফল পেতে পারে। প্রথমত, শিক্ষা খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কারণে এলাকার স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, ডিজিটাল ক্লাসরুম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা বিস্তার, এসব ক্ষেত্রে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। একজন শিক্ষিত ও বাস্তবমুখী নেতা হিসেবে তিনি যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার গুরুত্ব বোঝেন। উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সংস্কৃতি গড়ে তোলা, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, এসব উদ্যোগ চট্টগ্রাম-১০ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে পারে। এতে করে শুধু কর্মসংস্থান বাড়বে না, বরং সমাজে আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মানসিকতার বিকাশ ঘটবে।
তৃতীয়ত, তাঁর সততা ও নৈতিকতার কারণে জনগণ একজন জবাবদিহিমূলক জনপ্রতিনিধি পেতে পারে। একজন এমপি হিসেবে তিনি যদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন, জনগণের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর সমাধান দেন, তাহলে এলাকায় সুশাসনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে। জনগণ এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি কেবল নির্বাচনের সময় নয়, বরং সবসময় জনগণের পাশে থাকবেন, সাঈদ আল নোমানের ব্যক্তিত্ব সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এছাড়া তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও একটি বড় শক্তি। প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমানের কাছ থেকে তিনি রাজনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা, সংগঠন পরিচালনার কৌশল এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা পেয়েছেন। তবে তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কেবল আবেগের বিষয় হিসেবে দেখেন না; বরং আধুনিক সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তা নতুনভাবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেন। এটি তাঁকে একজন ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবমুখী নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাঈদ আল নোমান এমন একজন নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন, যেখানে থাকবে শিক্ষা, নৈতিকতা, উন্নয়ন ও মানবিকতার সমন্বয়। তিনি যদি নিজের আদর্শে অটল থাকতে পারেন এবং জনগণের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রাম-১০ আসনের মানুষের জন্য তিনি হতে পারেন একজন কার্যকর ও গর্ব করার মতো জনপ্রতিনিধি। তাঁর মতো সৎ, শিক্ষিত ও দূরদর্শী নেতার উত্থান শুধু একটি আসনের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যও একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করে।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক, সভাপতি, রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন। মোবাইল:০১৭১১০৩২৪৮৯।